Sunday, December 20, 2020

 If I Can Make it Here, I Can Make it Anywhere

- ইশতিয়াক খান





আজ নতুন করে শুরু করবো সব কিছু।

ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রা বলেছিলেন যদি "যদি নিউইয়র্কে কিছু হতে পার, দুনিয়ার যেকোন জায়গায় হতে পারবে"

গুনগুন করে ক্লাসিক গান টার সুর ভাঁজতে ভাঁজতে এগিয়ে গেলাম জানালার দিকে।আজকের সূর্য্যটা অন্যদিনের চেয়ে বেশি উজ্জ্বল মনে হচ্ছে। মোবাইলের এপ এ দেখলাম তাপমাত্রা ২৫-৩০ ডিগ্রীর মধ্যে থাকবে।

কাঠ ফাটা রোদের মধ্যে বের হলাম হাফ প্যান্ট, হাওয়াই শার্ট আর ফেডোরা হ্যাট চাপিয়ে। খুবই বিচিত্র পোষাক, নিঃসন্দেহে। কিন্তু মন আজ ফুরফুরা আর পকেট, ডলারে ভর্তি।

কিন্তু মানুষ ভাবে এক, হয় আরেক। বাদ সাধলেন সুয্যি মামা। ডিউটির মাঝে ফাঁকি মেরেছেন উনি। উনার নির্দয় অনুপস্থিতিতে বেরসিক মেঘ এসে ভিজিয়ে দিয়ে গেল সর্বাঙ্গ, মূহুর্তের মধ্যেই।

এতই বিরক্ত হলাম যে রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে মেঘের দিকে তর্জনী উচা করে কিছুক্ষণ সূর্য্য কে অভিসম্পাত করলাম। এর পর হঠাত আনমনা হয়ে গেলাম।

ওয়াও নিউ ইয়র্ক! কে জানতো এত দ্রুত আমার ভাগ্য ফিরবে। ছোট একটা ব্যবসায় কিছু টাকা লগ্নী করেছিলাম। এক মাসের মাথায় সে টাকা ১০ গুণ হয়ে ফিরে এল। পরের মাসে ইনভেস্টমেন্ট দ্বিগুণ করে দিলাম। আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। "ডার্টি নিগার"রা ড্রাগ খেয়ে খেয়ে, নিজেরা মারামারি করে মরুক, আমার কি?

প্রথম প্রথম খুব খারাপ লাগতো। লিটন ছিল আমার প্রিয় বন্ধু, নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করতো আমাকে। এমন কি, আমি যেদিন "হেলথ চেক আপ" এর জন্য "মালয়েশিয়া" যাওয়ার কথা বলে প্লেনে উঠে গেলাম, সেদিনও কিছু সন্দেহ করে নাই সে। ড্রপ করে দিয়ে গিয়েছে এয়ারপোর্টে তার জীর্ণ টয়োটা স্টারলেট গাড়ীতে চড়িয়ে। বাবা মা কে কোনদিন চেনার সুযোগ হয়নি, আত্নীয়, বন্ধু, বেস্ট ফ্রেন্ড--সব কিছুই ছিল লিটন।

নিউ ইয়র্কে এসে মেরে দেয়া ৮০ লাখ টাকা ওড়াতে খুব বেশি সময় লাগেনি । একবারও মনে পড়েনি লিটনের কথা। ৭ দিনের লাস ভেগাস ট্রিপ প্রায় নিঃশেষিত করে দিল আমাকে, সব দিক দিয়ে।

এরপরই বাকি টাকা দিয়ে ড্রাগ ব্যবসায় নামলাম। নিগ্রোদের প্রিয় কোকেইনের ব্যবসা, পুরাটাই লাভ। লিটনের শেয়ার বাজারের উদ্ভট ব্যবসার চেয়ে অনেক ভাল।

আচ্ছা, লিটন কেমন আছে? ও কি ভেবেছে, যখন জানতে পেরেছে প্রিয় বন্ধু তার সারা জীবনের সব সঞ্চয় মেরে দিয়ে ভেগে গিয়েছে? কাউকে কি বলতে পেরেছে দুঃখের কথা? নাকি দুঃখে হার্ট এটাকই করে বসলো সে! নাহ, আর ভাবতে চাই না।

আর দেরী নয়। নতুন দিন অপেক্ষা করছে, এভাবে আর রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে থেকে সময় নষ্ট করার কোন মানে হয় না। এসব বাজে চিন্তাকেও মাথা থেকে দূর করে দিলাম।

সামনে আগাতে গিয়ে ধাক্কা খেলাম জোরে, আকস্মিকভাবে।

মাটিতে পড়ে আছে নিউইয়র্ক টাইমস এর একটি কপি। হাতে নিলাম পেপারটি।

বিস্ফোরিত চোখে দেখলাম, প্রথম পাতায় একজন মাঝারী আকারের মানুষের ছবি। পরনে হাফ প্যান্ট, নীল হলুদ হাওয়াই শার্ট। আর যেখানে মাথা থাকার কথা, সেখানে থেতলানো, ছিন্ন ভিন্ন মাংশপিন্ড দেখা যাচ্ছে।

পাশে আশ্চর্যজনক ভাবে পড়ে আছে একটি অক্ষত ফেডোরা হ্যাট; একদম ইন্ডিয়ানা জোন্স এর টুপিটার মত।

হঠাত মনে পড়ে গেল অনেক কিছু। আকাশের দিকে নিস্ফল তর্জনী উত্তোলন। অনেক মানুষের আর্তনাদ। কর্কশ হর্ণের শব্দ। হলুদ, চোখ ধাধানো আলো। তারপর আর কিছু মনে নেই।

এই স্বপ্নটা প্রতিদিনই দেখি আমি। মনে হয় আজকেই সেই দিন, যেদিন সব কিছু বদলে দেব। কিন্তু কিছু করতে পারি না, কাউকে কিছু বলতেও পারি না। এখানে তো আর কেউ নেই!

নিউইয়র্কে না, দুনিয়ার কোন খানেই আর কোনদিন, কোনকিছু হতে পারবো না আমি। এই বয়ামের ঢাকনাও আর খুলবে না, যেখানে আমার মস্তিষ্ক সংরক্ষিত আছে অজানা কোন এক তরলে ডুবন্ত অবস্থায়।
আমাকে ক্ষমা করে দিস লিটন।

(একটি সায়েন্স ফিকশান/ভৌতিক গল্প। বেশ কিছুদিন আগে লিখেছিলাম। শেয়ার করা হয়নি সম্ভবত)।

No comments: